বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক মোড়। দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নবগঠিত সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্পের ফাইলে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।
এতদিন বাংলায় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হতো। তবে এবার কেন্দ্রের এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (Cashless) বিমার সুবিধা পেতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, এর আওতায় দেশের যে কোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা? প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলার প্রায় ১.২৪ কোটি সাধারণ পরিবারের পাশাপাশি ১৫.৯ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক (৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী), ৩ লক্ষ আশা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সরাসরি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন? (ধাপে ধাপে পদ্ধতি):
রাজ্যে প্রকল্প শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আপনি নিচের পদ্ধতিতে কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন:
১. অফিসিয়াল পোর্টাল: প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (beneficiary.nha.gov.in) বা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘Ayushman App’ ডাউনলোড করুন। ২. লগ-ইন: ‘Beneficiary’ অপশনটি বেছে নিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি-র (OTP) মাধ্যমে লগ-ইন করুন। ৩. তথ্য যাচাই: আপনার রাজ্য, জেলা এবং রেশন কার্ড বা আধার কার্ড নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। আপনার নাম তালিকায় থাকলে তা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। ৪. ই-কেওয়াইসি (e-KYC): নাম পাওয়ার পর ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে। এটি আধার ওটিপি বা ফেস অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে করা যায়। ৫. কার্ড ডাউনলোড: কেওয়াইসি এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ জেনারেট হয়ে যাবে এবং আপনি এটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে পারবেন।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ? আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এর ‘পোর্টাবিলিটি’। অর্থাৎ, বাংলার কোনো কার্ডধারী যদি ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে তিনি সেই রাজ্যের হাসপাতালেও এই কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পেতে পারেন।
রাজ্যজুড়ে এখন কেবল সরকারি নির্দেশের অপেক্ষা। ক্যাবিনেটে অনুমোদনের পরেই এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।





