একটানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের কাণ্ডারি হিসেবে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবারই কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে তাঁর নামে সিলমোহর পড়েছে। শনিবার তিনি শপথ নিতে চলেছেন। কিন্তু শুভেন্দুর এই রাজ্যাভিষেকের আবহেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই হুমায়ুন কবীর সরব হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী শক্তির ভূমিকা পালন করবে তাঁর দলই। হুমায়ুনের দাবি, তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং সংখ্যালঘু ভোট বিভাজনের ফলেই এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন। তিনি বলেন, “এতদিন মানুষ যাদের বিরোধী ভেবেছিল, তারা ব্যর্থ। এবার বিধানসভায় আমরাই আসল বিরোধী হিসেবে মানুষের কথা বলব।”
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের দল চমকপ্রদ পারফরম্যান্স করেছে। মুর্শিদাবাদসহ বেশ কিছু জেলায় তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে ধস নামিয়ে তিনি নিজেই দু’টি আসনে জয়লাভ করেছেন। একসময়ের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই নেতার অভিযোগ, শাসক দলের দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচরের জবাব দিয়েছে বাংলার জনতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের এই হুঙ্কার রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে এক নয়া মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিধানসভার ভেতরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং তৃণমূলের মধ্যে লড়াই কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।





