ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এবার এক নজিরবিহীন উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে কথিত ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক পুশ করার আশঙ্কায় এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ঢাকা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-কে (Border Guard Bangladesh) হাই-অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার এই আকস্মিক পদক্ষেপ দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ঢাকার বড় আশঙ্কা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে পুশব্যাক করার সম্ভাবনা দেখছে ঢাকা। এই আশঙ্কা থেকে বিজিবি-র জওয়ানদের দিনরাত কড়া পাহারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক কাউকে পুশ করা না হয়, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।
সতর্কতায় বাংলা ও অসম সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের সীমান্ত এলাকাগুলো বরাবরই স্পর্শকাতর। বিজিবি-র শীর্ষ কর্তারা প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি এবং টহলদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মূলত ভারত থেকে কোনো অঘটন যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজিবি-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিজিবি-র সদর দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই প্রতিটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, সীমান্তে সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং নদীপথগুলোতে নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলে জল্পনা সীমান্তে এই সতর্কবার্তার পর কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও ভারত সরকার বা বিএসএফ-এর (BSF) পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে বিজিবি-র এই ‘পুশব্যাক’ আতঙ্ক সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সীমান্তের এই চাপা উত্তেজনা কি বড় কোনো কূটনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত? ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্তের খবর নিয়ে হাজির থাকছি। সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।





