রাজ্য রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া, কিন্তু সেই হাওয়ার গতি কি থমকে গেল ডিজিটাল দুনিয়ায়? ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলের পর রাজ্য যখন এক নতুন প্রশাসনিক জমানার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল। প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর এবং মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও, তাঁর ডিজিটাল হ্যান্ডেলে এখনও ‘Chief Minister’ বা ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়টি অপরিবর্তিত থাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যপাল আরএন রবি ইতিমধ্যেই বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হলো মুখ্যমন্ত্রীসহ সমস্ত মন্ত্রীর আইনি পদের অবসান ঘটা। কিন্তু বাস্তবের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক বা এক্স (টুইটার) প্রোফাইলে। সেখানে আজও তাঁর নামের পাশে শোভা পাচ্ছে রাজ্যের শীর্ষ পদের তকমা। নেটিজেনদের একাংশ এই নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এই বিলম্ব কি নেহাতই প্রযুক্তিগত কারণে, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনো রাজনৈতিক বার্তা?
বিরোধী শিবিরের নেতারা এই বিষয়টিকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তাঁদের দাবি, জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই পরিচয় বদলানো হচ্ছে না। তাঁদের মতে, যখন সাংবিধানিক প্রধান পদটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন, তখন একজন বর্ষীয়ান নেত্রীর নৈতিক দায়িত্ব দ্রুত নিজের ডিজিটাল পরিচয় আপডেট করা। প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমারেখা থাকা উচিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের অনুগামীদের একাংশের দাবি, নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই পরিচয় থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিতর্কের আগুন তাতে নিভছে না। ৯ মে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের আগে মমতার এই ‘ডিজিটাল মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় কতক্ষণ স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।





