দক্ষিণী মেগাস্টার থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেক রূপোলি পর্দার মতোই ঝকঝকে হলেও, কুর্সি দখলের লড়াই এখন এক গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। ৪ মে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তিন দিন অতিক্রান্ত, কিন্তু এখনও সরকার গঠন নিয়ে কাটেনি কুয়াশা। ১০৮টি আসন জিতে বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ (TVK) একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও, ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে তারা এখনও বেশ দূরে।
এই রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই দাবার চাল দিতে শুরু করেছেন বিজয়। কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন পেলেও সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তা যথেষ্ট নয়। ফলে এবার ভিসিকে (VCK), সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর কাছে সমর্থনের আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। যদিও শুক্রবার সকালে ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা বামফ্রন্টের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত বার্তা দেব।” অন্যদিকে, সিপিআই সাংসদ পি সান্দোষ কুমার গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
চেন্নাইয়ের রাজভবনে গত ২৪ ঘণ্টায় দু’বার পা রেখেছেন বিজয়। কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে না পারায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার লোকভবন থেকে একটি বিবৃতি জারি করে বিজয়কে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, শর্ত একটাই— বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। এর প্রতিবাদে চেন্নাইয়ের রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছে কংগ্রেস কর্মীরা।
অন্যদিকে, তামিল রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চরম ‘রিসর্ট পলিটিক্স’। ভাঙন রুখতে এআইএডিএমকে প্রধান ই পালানিস্বামী তাঁর ৪৭ জন বিধায়কের মধ্যে ৪০ জনকে পুদুচ্চেরির একটি বিলাসবহুল রিসর্টে বন্দি করেছেন। এদিকে, জল্পনা ছড়িয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র হাত মেলানো নিয়ে। যদিও এমকে স্ট্যালিন আপাতত ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি নিয়েছেন। তিনি কংগ্রেসের দলবদলকে “পিছন থেকে ছুরি মারা” বলে কটাক্ষ করলেও জানিয়েছেন, বিজয় সরকার গড়লে আগামী ছ’মাস তাঁর দল গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে। ডিএমকে-র জরুরি বৈঠকেও এআইএডিএমকে-র সাথে জোট নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর ভাগ্য এখন ছোট দলগুলোর হাতের মুঠোয়।





