২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের রেশ পৌঁছে গেল সীমান্তের ওপারেও। বাংলায় পদ্ম শিবিরের এই বিপুল সাফল্য ঢাকার প্রশাসনিক মহলে এক অজানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই অনুপ্রবেশ ও ‘পুশব্যাক’ (অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো) ইস্যুতে যে কড়া অবস্থান নিয়েছিল, তা ঘিরেই এখন ব্যাকুল ওপার বাংলা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে ভারতকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-র (BNP) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বা অসমে ক্ষমতার পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে যদি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক মানুষ পাঠানোর (পুশব্যাক) চেষ্টা করা হয়, তবে ঢাকা তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এ ধরনের ‘পুশব্যাক’ বা ‘পুশ-ইন’ রুখতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাদের দাবি, কোনোভাবেই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
দিল্লির কড়া ও স্পষ্ট বার্তা বাংলাদেশের এই ‘পুশব্যাক’ আতঙ্কের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) আজ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেছেন যে, অনুপ্রবেশ ইস্যুটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সাথে যুক্ত এবং একে বাস্তবসম্মত প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টে ঢাকাকেই কাঠগড়ায় তুলে বলা হয়েছে:
বিলেপি যাচাইয়ে দেরি: ভারতের দাবি, ২৮৬০টিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের জাতীয়তা যাচাইয়ের (Nationality Verification) আবেদন ঢাকার কাছে বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশ সহযোগিতা না করলে এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
আইনি প্রত্যাবাসন: ভারত কোনো ‘অবৈধ পুশব্যাক’-এর কথা বলছে না, বরং বৈধ পথে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানাচ্ছে। দিল্লির বার্তা— ঢাকা যদি দ্রুত নথি যাচাই করে, তবেই প্রক্রিয়াটি মসৃণ হবে।
সীমান্তে ‘হাই অ্যালার্ট’ এদিকে, ভারতের নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই বিজিবি (BGB)-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে এমন কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটবে না যা দুই দেশের সম্পর্ককে তিক্ত করে।
কেন এই আতঙ্ক? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তিলোত্তমার রাজনীতিতে মমতার ওস্তাদ বিদায় এবং শুভেন্দু-সুকান্তদের উত্থান বাংলাদেশের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ। তিস্তা জলবণ্টন থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজেপি অনেক বেশি কড়া অবস্থান নেবে বলে মনে করছে ঢাকা। দিল্লির এই পাল্টা বার্তা এখন ঢাকাকে কোন পথে চালিত করে, সেটাই দেখার।





