দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের রামপুর এলাকার এক চিলতে ভাঙাচোরা ঘর। সেখানেই জন্ম হার না মানা এক রূপকথার। চরম দারিদ্র্য আর অনটন যে বড় স্বপ্নের সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারে না, ২১ বছর বয়সী চম্পা সোরেন আজ তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। ভুটানের প্রফেশনাল ফুটবল লিগের ন্যাশনাল ক্লাব ফুটবলে ‘ইউনাইটেড উইমেন এফসি’-র হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন বাংলার এই মেয়ে। দু’দিন আগেই ভুটানের মাটিতে তাঁর অভিষেক ম্যাচ সম্পন্ন হয়েছে, আর তাতেই নজর কেড়েছেন ফুটবল বিশ্বের।
চম্পার বড় হওয়া অত্যন্ত সাধারণ এক আদিবাসী পরিবারে। বাবা জার্মান সোরেন পেশায় খেতমজুর, অন্যের জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনওরকমে দিন গুজরান হয়। মা গৃহবধূ। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ফুটবল কেনা বা বুট জোগাড় করা ছিল কল্পনাতীত। কিন্তু অদম্য জেদ আর ফুটবলের প্রতি প্যাশন—সব প্রতিকূলতাকেই ড্রিবল করে এগিয়ে গিয়েছে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে পতিরাম হাইস্কুল মাঠে ফুটবল খেলতে আসেন চম্পা। সেখানেই তাঁর প্রতিভা চোখে পড়ে ‘পিএইচএস ৯২’ ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষকদের। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কয়েকমাস আগে ভুটানের একটি ক্লাবের প্রতিনিধিরা বাংলায় এসে খেলোয়াড় বাছাইয়ের ট্রায়াল নেন। নথিপত্র ও বয়সের সঠিক মানদণ্ডে একমাত্র চম্পাই সেই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বিদেশের মাটিতে খেলার ছাড়পত্র পান।
নিজের জেলা তো বটেই, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের তথা বাংলার নাম উজ্জ্বল করে চম্পা সোরেন বলেন, “ছোটবেলায় গ্রামের ছেলেদের খেলতে দেখেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। চার বছর ধরে পতিরামের মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে অনুশীলন করেছি। আজ ভুটানের লিগে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। তবে লক্ষ্য আরও অনেক দূর।” চম্পার এই জয়যাত্রা আজ বাংলার হাজার হাজার ফুটবল পাগল তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা। দারিদ্র্যকে গোল দিয়ে তাঁর এই বিশ্বজয় প্রমাণ করল, জেদ থাকলে আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব নয়।





