“BJP-প্রার্থীর বাড়ির কাছেই বিস্ফোরণ!”-রত্না দেবনাথের জয়ের পরই টার্গেট কর্মীরা?

নির্বাচনের ফল বেরোতেই শান্ত বাংলা কি ফের পুরনো সেই ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র চেনা ছকে ফিরছে? শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটি। বুধবার গভীর রাতে পানিহাটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোড এলাকায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন বিজেপি সমর্থক।

জয়ের আনন্দের মাঝেই বোমাবাজি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, পানিহাটি কেন্দ্র থেকে সদ্য জয়ী হয়েছেন আরজি কর নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। তাঁর বাড়ির ঢিলছোড়া দূরত্বেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত তখন বেশ গভীর। দত্ত রোড এলাকায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকটি মোটরবাইকে চড়ে একদল দুষ্কৃতী এলাকায় ঢোকে এবং বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে একের পর এক দেশি বোমা ছুড়তে শুরু করে। বোমার আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ৫ জন কর্মী। ঘটনার পরই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এলাকা ছাড়ে আততায়ীরা।

বিজেপির অভিযোগ ও তৃণমূলের পাল্টাসওয়াল এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলেছে গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, পরাজয় মেনে নিতে না পেরে এবং রত্না দেবনাথের জয়ের বদলা নিতেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে, এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই।

আহতরা আরজি কর হাসপাতালে বোমাবাজিতে গুরুতর জগত ৫ কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পানিহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছি। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার ও গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।”

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড এবং তার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানিহাটিতে এই বোমাবাজি— সব মিলিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসন কত দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে এলাকায় শান্তি ফেরাতে পারে।