মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুললেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। এটি কেবল রাজনৈতিক হিংসা নয়, বরং ‘শার্পশ্যুটার’ দিয়ে করানো একটি সুপরিকল্পিত খুন বলে দাবি করেছেন তিনি।
“অভিষেকই গ্রেফতার হবেন” – মারাত্মক অভিযোগ অর্জুনের সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অর্জুন সিং দাবি করেন, এই খুনের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁর কথায়, “এটি সাধারণ কোনো ভোট পরবর্তী হিংসা নয়। এটি এজেন্সির দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শার্পশ্যুটারের কাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কিছু পুলিশ আধিকারিক রয়েছেন, যারা এই ধরনের কাজ পরিচালনা করেন।”
অর্জুন আরও এক ধাপ এগিয়ে অতীত টেনে বলেন, “একবার অভিষেককে মঞ্চে যে যুবক থাপ্পড় মেরেছিল, সাত বছর পর তাকে ট্রাক চাপা দিয়ে মারা হয়েছিল। এমনকি কিষেনজিকেও ব্যবহার করে পরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকার গড়তে না পারার হতাশা থেকেই অভিষেক এই কাজ করিয়েছেন। তদন্ত হলে তিনিই গ্রেফতার হবেন।”
পেশাদার শ্যুটার ও অত্যাধুনিক ‘গ্লক’ রহস্য তদন্তকারী আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডে অত্যন্ত উচ্চমানের প্রযুক্তি ও পেশাদারিত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লক ৪৭এক্স (Glock 47X) পিস্তল ব্যবহার করেছিল। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ দুষ্কৃতীদের নাগালের বাইরে। এটি নিশ্চিতভাবেই কোনো পেশাদার শ্যুটার গোষ্ঠীর কাজ।
#WATCH | Barrackpore, North 24 Paraganas | On Suvendu Adhikari’s PA shot dead, BJP leader Arjun Singh says, “If this is post-poll violence or done by Abhishek Banerjee is a matter of investigation. This is a planned murder where a sharpshooter did the job. Abhishek Banerjee has… pic.twitter.com/APhAzmujqe
— ANI (@ANI) May 7, 2026
যেভাবে চলে অপারেশন: যেন সিনেমার চিত্রনাট্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ। দোলতলা ও মধ্যমগ্রাম চৌমাথার মাঝামাঝি দোহারিয়া এলাকায় আসতেই কয়েকটি মোটরবাইক তাঁর গাড়ির পথ আটকে দেয়। এরপরই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথকে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শোকস্তব্ধ গেরুয়া শিবির, রণক্ষেত্র মধ্যমগ্রাম ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁরা একযোগে এই খুনের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। তবে অর্জুন সিংয়ের সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করায় রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে শার্পশ্যুটার তত্ত্ব সামনে আসায় এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





