চলতি বৈশাখে সূর্যের প্রখর তেজ ম্লান করে রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছে অকাল বৃষ্টি। তবে স্বস্তির দিন কি এবার শেষ হতে চলল? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের পুরোটাই রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকলেও আগামী সপ্তাহ থেকেই ভোলবদল হতে পারে আবহাওয়ার। বাড়তে পারে গরমের দাপট।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে উত্তর-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের উপরে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা ঝড়-বৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া বইতে পারে তিলোত্তমায়। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও আজ বৃষ্টির ভ্রুকুটি রয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর ও হুগলিতে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার এই ঝড়ের গতিবেগ বেড়ে ৪০-৫০ কিমি হতে পারে বীরভূম ও বর্ধমান সংলগ্ন জেলাগুলিতে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আগামী শনিবার অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখ। এই দিনই ব্রিগেডে নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। দেশের প্রধানমন্ত্রী-সহ বহু ভিভিআইপিদের উপস্থিত থাকার কথা এই মেগা ইভেন্টে। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গও বাদ যাচ্ছে না এই দুর্যোগ থেকে। মালদা ও দুই দিনাজপুরে আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বুধবার কলকাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২ ডিগ্রি কম থাকলেও, ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব কাটলেই পারদ চড়চড়িয়ে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





