বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেম নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র সরকার। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলায় ‘বন্দেমাতরম’ বা জাতীয় পতাকাকে কেন্দ্র করে যে ধরণের রাজনৈতিক তরজা চলেছে, তাতে ইতি টানতে এবার আইন সংশোধনের পথে হাঁটল দিল্লি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় স্তোত্র বা ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রতি কোনো রকম অসম্মান প্রদর্শন করলে সরাসরি জেলের ঘানি টানতে হতে পারে অপরাধীকে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল জাতীয়তাবাদ। এবার নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই সেই আদর্শকে আইনি শিলমোহর দিতে তৎপর হলো মোদী সরকার।
নতুন আইনে কী আছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ বা জাতীয় সম্মান সুরক্ষা আইনের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন সংশোধনীতে স্পষ্ট করা হয়েছে:
সরাসরি জেল: যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রকাশ্যে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেয় বা অপমানজনক মন্তব্য করে, তবে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হবে।
শাস্তির মেয়াদ: অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও যদি জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করা হয়, তবে সাইবার আইনের পাশাপাশি এই নতুন ধারা প্রয়োগ করা হবে।
কেন এই আইন? বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে বাংলায় জাতীয় স্লোগান নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেগে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এই ধরণের প্রবণতা বন্ধ হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে।
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে সরব হয়েছে। তবে নবান্নের নতুন শাসকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদাকে রক্ষা করা তাঁদের অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে।
শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই কেন্দ্রের এই আইনি সক্রিয়তা কি বাংলায় নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে? নাকি দেশপ্রেমের এই নতুন জোয়ারে ধুয়ে যাবে সমস্ত বিরোধ? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।





