বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে টানটান উত্তেজনার হাওয়া। একদিকে যখন পরাজয় স্বীকার না করে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই এক নেতার চাঞ্চল্যকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সাফাই দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘কোনও নেতার ব্যক্তিগত মতামতের দায়ভার দলের নয়!’
নেপথ্যে কী কারণ? সূত্রের খবর, সম্প্রতি ওপার বাংলার (বাংলাদেশ) এক জামাত নেতার পরামর্শ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই বিতর্কিত বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ না করে দিল্লির বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তৃণমূলের অন্দরে এবং প্রকাশ্যে বেশ কয়েকজন নেতা এমন কিছু মন্তব্য করেন যা দলের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তৃণমূলের সরকারি বিবৃতি: পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তাই দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আজ এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “দলের নিয়ম মেনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রত্যেকের কর্তব্য। যদি কোনো সদস্য বা নেতা তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে কোনো মতামত দেন, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বা আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হবে না।”
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব: বিজেপি অবশ্য এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ বিবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, হারের পর তৃণমূলের নেতারা একেকজন একেক রকম কথা বলছেন, যা আসলে তাঁদের দিশেহারা অবস্থারই প্রমাণ। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নের ক্ষমতা হারানোর পর দলের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন মমতা-অভিষেকের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আগে যেভাবে পালটা পালটি বিবৃতি ঘিরে রাজনীতি তপ্ত হচ্ছে, তাতে আগামী দিনগুলো যে আরও নাটকীয় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের এই ‘দূরত্ব বজায় রাখার’ কৌশল কি বিতর্ক থামাতে পারবে? উত্তর দেবে সময়।





