পুরনো ক্ষতে নুনের ছিটে! ২০২১-এর ‘রক্তাক্ত’ বাংলার স্মৃতি উসকে দিলেন শুভেন্দু, মমতার বিরুদ্ধে বড় পর্দাফাঁস

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ইতিহাস নতুন নয়। ২০২৬-এর পালাবদলের আবহে যখন ফের নতুন করে অশান্তির খবর আসছে, ঠিক তখনই ২০২১ সালের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতিকে হাতিয়ার করে আসরে নামলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় কীভাবে বিরোধী কর্মীদের ওপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছিল, তার ‘পর্দাফাঁস’ করে আজ নবান্নের বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, ২০২১ সালে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে গণতন্ত্রকে নজিরবিহীনভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, শাসকদলের মদতে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন, এমনকি শ্লীলতাহানি ও খুনের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনাও ঘটেছিল। শুভেন্দুর কথায়, “বাংলার মানুষ সেদিন যে অত্যাচার সহ্য করেছে, তা ভোলার নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভোট পরবর্তী সেই হিংসা আসলে ছিল পরিকল্পিত জঙ্গলরাজ।”

শুভেন্দুর নিশানায় যে বিষয়গুলো উঠে এল:

  • পরিকল্পিত আক্রমণ: শুভেন্দুর দাবি, প্রশাসনের একাংশের মদতে বিরোধী শূন্য করার লক্ষ্যেই ২০২১ সালে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

  • বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপ: তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সেই সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে খোদ কলকাতা হাইকোর্ট এবং মানবাধিকার কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।

  • বর্তমান পরিস্থিতির হুঁশিয়ারি: ২০২৬-এর নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর যেখানেই আক্রমণ হবে, সেখানেই পাল্টা আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী পরাজয়ের গ্লানি মুছতে এবং নতুন সরকারকে বিপাকে ফেলতেই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছেন। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বরং বিজেপি কর্মীরাই উস্কানিমূলক কাজ করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘পর্দাফাঁস’ আসলে নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের আগে এক ধরণের রণকৌশল। ২০২১-এর সেই রক্তাক্ত ইতিহাসকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি যেমন দলের নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছেন, তেমনই বিদায়ী সরকারের ব্যর্থতাকে আরও একবার জনসমক্ষে তুলে ধরছেন। বাংলার রাজপথে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকবে নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি আরও দীর্ঘ হবে— এখন সেই আশঙ্কাই তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy