বর্তমান যুগে শৈশব মানেই যেন চার দেওয়ালের মাঝে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের স্ক্রিনে বন্দি এক জীবন। কিন্তু এই ডিজিটাল আসক্তিই যে আপনার আদরের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে এবার কড়া সতর্কবার্তা দিল দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)। চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিন বা পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের পারস্পরিক সংযোগ, স্নেহ এবং কথোপকথনের স্বাভাবিক ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে, যা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশের পথে বড় অন্তরায়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ (Autism-like) লক্ষণ দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার মূলত একটি স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, যা শিশুর সামাজিক মেলামেশা ও যোগাযোগের দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জীবনের শুরুতে মানুষের স্পর্শ ও কথা বলার পরিবর্তে শিশু যদি যন্ত্রের সঙ্গে যান্ত্রিক মিতালিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, একটি শিশুর জীবনের প্রথম ১০০০ দিন বা প্রথম কয়েক বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর মস্তিষ্ক স্পঞ্জের মতো দ্রুত তথ্য গ্রহণ করে। বর্তমানে শিশুদের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্ক্রিন-নির্ভর জগতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের বিকাশে বাধা দিচ্ছে। AIIMS-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ মাস বা দেড় বছরের কম বয়সি শিশুদের কোনোভাবেই স্ক্রিনের সামনে রাখা উচিত নয়। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করে না, বরং কোনো একটি খেলনার নির্দিষ্ট অংশের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে মনোযোগী হয়ে থাকে।
অভিভাবকদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, তিন বছর বয়সের পর মস্তিষ্কের গঠনগত বিন্যাস সুদৃঢ় হয়ে যায়, ফলে তখন পরিবর্তন আনা কঠিন। তাই শিশুর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
চোখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলা বা আই-কন্টাক্ট এড়িয়ে চলা।
নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া।
কথা বলতে অস্বাভাবিক দেরি হওয়া।
আগে জানত এমন কোনো দক্ষতা হঠাতই ভুলে যাওয়া।
মনে রাখবেন, অটিজম একটি জটিল বিষয় যার পেছনে জিনগত বা পরিবেশগত কারণ থাকতে পারে। তবে মোবাইল বা টিভির নেশা সেই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আজই আপনার সন্তানকে স্ক্রিন থেকে দূরে সরিয়ে গল্প বলা, খেলাধুলা এবং পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর অভ্যাসে ফিরিয়ে আনুন।





