ফিক্সড ডিপোজিটে বাম্পার ধামাকা! এক লাফে সুদের হার বাড়াল বড় দুই ব্যাঙ্ক, পকেটে আসবে মোটা টাকা

মুদ্রাস্ফীতির বাজারে নিজের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শেয়ার বাজারের ওঠানামা নিয়ে যাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই, তাদের জন্য আজও ফিক্সড ডিপোজিট বা FD হলো আস্থার প্রধান জায়গা। সম্প্রতি দেশের দুই শীর্ষ ব্যাঙ্ক— স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং এইচডিএফসি (HDFC) তাদের সুদের হারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে। আপনি যদি নতুন করে বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে টাকা রাখার আগে দেখে নিন কোন ব্যাঙ্ক কত দিচ্ছে।

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI): সাধারণ ও প্রবীণদের সেরা সুযোগ

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক SBI তাদের গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে আকর্ষণীয় সুদের ব্যবস্থা রেখেছে। বিশেষ করে যারা ১ থেকে ২ বছরের জন্য টাকা রাখতে চান, তাদের জন্য রেট বেশ নজরকাড়া।

  • সর্বোচ্চ সুদ: SBI-এর বিশেষ স্কিম ‘অমৃত কলশ’-এ সর্বোচ্চ ৭.১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ মিলছে।

  • প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধা: সিনিয়র সিটিজেনরা সাধারণের চেয়ে ০.৫০ শতাংশ বেশি সুদ পাবেন। অর্থাৎ তাঁদের জন্য সুদের হার ৭.৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক (HDFC Bank): বড় দাও মারে বেসরকারি ব্যাঙ্ক

প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে নেই বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক HDFC-ও। ১৮ মাস থেকে ২১ মাসের মেয়াদী আমানতের ওপর তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।

  • সুদের হার: সাধারণ গ্রাহকরা এই ব্যাঙ্কে ৭.০০ শতাংশ থেকে ৭.২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পেতে পারেন।

  • স্পেশাল স্কিম: প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রয়েছে ‘সিনিয়র সিটিজেন কেয়ার এফডি’ (Senior Citizen Care FD), যেখানে সঞ্চয়ের ওপর বাড়তি সুদ ও সুরক্ষার গ্যারান্টি দিচ্ছে ব্যাঙ্কটি।

বিনিয়োগের আগে ৩টি জরুরি সতর্কতা:

টাকা রাখার আগে এই বিষয়গুলি অবশ্যই মাথায় রাখুন: ১. মেয়াদ নির্বাচন: কত দিনের জন্য টাকা রাখছেন, তার ওপর সুদের হার সরাসরি নির্ভর করে। ছোট মেয়াদের চেয়ে মাঝারি মেয়াদে (১-২ বছর) বর্তমানে সুদ বেশি। ২. অতিরিক্ত সুদ: আপনি যদি প্রবীণ নাগরিক হন, তবে ব্যাঙ্ক ভেদে ০.৫০% থেকে ০.৭৫% পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ দাবি করতে পারেন। ৩. TDS নিয়ম: বছরে FD থেকে সুদের আয় ৪০,০০০ টাকা (প্রবীণদের জন্য ৫০,০০০ টাকা) অতিক্রম করলে ব্যাঙ্ক TDS কাটবে। তাই আগেভাগেই কর সংক্রান্ত পরিকল্পনা সেরে রাখুন।

ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং: লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ

এখন আর ব্যাঙ্কে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। নেট ব্যাঙ্কিং বা ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মিনিটেই ঘরে বসে FD অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। বর্তমান অস্থিতিশীল বাজারে নিশ্চিত আয়ের জন্য সঠিক FD প্ল্যান বেছে নেওয়া আপনার ভবিষ্যৎকে আর্থিকভাবে অনেক বেশি মজবুত করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy