বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে গেলেও, সংঘাতের পারদ কিছুতেই নামছে না। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে তিনি দাবি করেছেন, “আমরাই জিতেছি, হারিনি।” বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এবার ভাষায় নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
“মানুষ তাড়িয়ে দিয়েছে তাঁকে”
বিজেপির এই লড়াকু আইনজীবী-নেতা সাফ জানিয়েছেন, বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গোটা রাজ্য তৃণমূলকে তাড়িয়ে দিয়েছে। উনি নিজে হেরেছেন, দলও হেরেছে। তারপরেও কোন ভরসায় তিনি চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন?” তরুণজ্যোতির দাবি, জনাদেশ আসার সঙ্গে সঙ্গেই নৈতিকভাবে মমতার সরে যাওয়া উচিত ছিল।
ব্যক্তিগত আক্রমণ তরুণজ্যোতির
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে রীতিমতো ‘নির্লজ্জ’ তকমা দিয়েছেন তরুণজ্যোতি। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “ন্যূনতম যদি লজ্জা থাকত, তবে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই তিনি পদত্যাগ করতেন। কিন্তু তিনি নির্লজ্জতার সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের এক নম্বর নির্লজ্জ ব্যক্তির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
সাংবিধানিক সংকট ও রাজনৈতিক তরজা
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র করে তৃণমূলকে হারিয়েছে। তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতেও অস্বীকার করেছেন। এই জেদ আসলে বাংলায় কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি করার কৌশল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তরুণজ্যোতির মতো নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়করাও পাল্টা আক্রমণ শানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, বাংলার মানুষ শান্তির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং মোদী-শুভেন্দুর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন এখন সময়ের অপেক্ষা। মমতার এই ‘নাটক’ কেবল তাঁর রাজনৈতিক পতনকেই আরও নিশ্চিত করছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
পরাজয়ের পর দিদির এই অনড় মেজাজ এবং বিজেপির পাল্টা আক্রমণ— সব মিলিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে বাংলার আকাশ এখন উত্তপ্ত।





