বিস্ফোরক মমতা বনাম অনড় কমিশন! ভবানীপুরের হার নিয়ে তুঙ্গে সংঘাত, কী আছে নির্বাচনী রিপোর্টে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে হারের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অসত্য’ বলে সরাসরি খারিজ করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট গণনায় কোনও কারচুপি হয়নি।

কমিশনের কড়া রিপোর্ট: “সবই নিয়মমাফিক”

ভবানীপুর কেন্দ্রের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং নিয়ম ভেঙে ভোট গণনা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন:

  • ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ করা হয়নি; পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং কমিশনের কাছে মজুত রয়েছে।

  • গণনাকেন্দ্রে কারচুপির কোনও সুযোগ ছিল না এবং প্রতিটি পদক্ষেপ কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই নেওয়া হয়েছে।

মারধরের অভিযোগ কি ‘কল্পনাপ্রসূত’?

সোমবার রাতে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় এবং মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। এমনকি ‘পেটে ও পিঠে লাথি’ মারার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগটিও সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনের মতে, গণনাকেন্দ্রে এই ধরণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি এবং এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।

মমতার ‘ভিলেন’ তত্ত্ব ও কমিশনের পালটা

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে ‘ভিলেন’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘গট আপ বেটিং’ হয়েছে। তাঁর মতে, ১০০টি আসন জোর করে তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কমিশন এই সমস্ত রাজনৈতিক অভিযোগের বিপরীতে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, ভোটারদের জনাদেশ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং প্রশাসনিক স্তরে অফিসার বদল বা রেড করার মতো বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রোটোকল মেনেই করা হয়েছিল।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বনাম নির্বাচন কমিশনের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। তবে কমিশনের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের ‘ভোট লুঠ’ তত্ত্বের সামনে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক বাধা তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy