বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে অশান্তির খবর। কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, কোথাও আবার বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। এই পরিস্থিতিতে এবার দলীয় কর্মীদের সংযত হওয়ার কড়া বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বিজেপিকে বিজেপি-ই থাকতে হবে, তৃণমূল হওয়া চলবে না।”
“রাবণ হবেন না”, সুকান্তর কড়া দাওয়াই
ভোট পরবর্তী হিংসার খবর সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ তৃণমূলের উদ্ধত আচরণ ও হিংসাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই আমাদের কর্মীদেরও তৃণমূলের মতো আচরণ করা সাজে না। বিজেপিকে বিজেপি হিসেবেই থাকতে হবে।” কর্মীদের ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “রাবণ সবসময় রাবণই থাকে। আমরা ভগবান রামের অনুসারী। আমাদের রাবণ হয়ে যাওয়া উচিত নয়।” আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সুকান্ত জানান, পুলিশ ও প্রশাসন সবকিছুর ব্যবস্থা নেবে।
শমীক ভট্টাচার্যের বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, দলের পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি ভাঙচুর বা অশান্তিতে জড়ায়, তবে তাকে রেয়াত করা হবে না। তিনি বলেন, “কিছু জায়গায় দেখা গেছে লোকজন বিজেপির পতাকা নিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। কেউ যদি এমন কাজ করে, তবে আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হব।” বাংলার জয় নিয়ে সারা দেশে যখন উৎসব চলছে, তখন কর্মীদের শান্ত থেকে বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার কাজে মন দেওয়ার ডাক দেন তিনি।
রক্তাক্ত দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ
নেতৃত্বের বার্তার মাঝেই রাজ্যের পরিস্থিতি কিন্তু বেশ উত্তপ্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। লাঠি-রড নিয়ে বেধড়ক মারধরের জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে রুবির মোড়েও, যেখানে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের দায় উঠেছে বিজেপির দিকে। রাজারহাট-নিউ টাউনেও ফল ঘোষণার পর থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কেন এই কড়া বার্তা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন রাজ্যে ‘হিংসার রাজনীতি’ ও ‘পার্টি অফিস দখল’-এর যে সংস্কৃতি চলে আসছে, ক্ষমতায় এসে বিজেপি সেই পথে হাঁটলে জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সুকান্ত-শমীকরা গোড়াতেই রাশ টানতে চাইছেন। তবে নব্য জয়ী কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ নবগঠিত সরকারের সামনে।





