উত্তরবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ কি নিঃশব্দে বদলে যাচ্ছে? কোচবিহারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে তেমনই এক ইঙ্গিত উঠে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটের কারিগর হিসেবে গ্রেটার কোচবিহার নেতা অনন্ত মহারাজের নাম শোনা গেলেও, এবারের চিত্রটা অনেকটাই ভিন্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহারে বিজেপির শক্ত অবস্থান ধরে রাখার নেপথ্যে এবার বড় ভূমিকা পালন করেছেন বংশীবদন বর্মন।
কোচবিহার জেলার রাজনীতিতে ‘গ্রেটার’ ফ্যাক্টর সব সময়ই একটি বড় নির্ণায়ক শক্তি। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, রাজবংশী ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানা সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছেই এক বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ দিন ধরে বিজেপি এই এলাকায় অনন্ত মহারাজের ওপর ভরসা করে আসছিল। তাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে দল বুঝিয়ে দিয়েছিল যে রাজবংশী ভোট তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেই সমীকরণে কিছুটা ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঠিক এই জায়গাতেই উঠে আসছে বংশীবদন বর্মনের নাম। স্থানীয় স্তরে তার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি জনসংযোগ বিজেপির জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, অনন্ত মহারাজের প্রভাব যখন কিছুটা স্তিমিত হচ্ছে, তখন বংশীবদনের সংগঠনই নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার প্রচার কৌশল বিজেপির ভোট ব্যাংককে অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করেছে।
অনেকেই মনে করছেন, কোচবিহারে বিজেপির ভালো ফলের পেছনে বংশীবদনের নেতৃত্ব ও জনসংযোগই আসল চাবিকাঠি। অনন্ত মহারাজকে নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে চর্চা চলছে, ঠিক সেই সময়েই নিঃশব্দে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন বংশীবদন। কোচবিহারের আগামী দিনের রাজনীতিতে এই ‘গ্রেটার’ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত কোচবিহার বিজেপির অন্দরে বংশীবদনের গুরুত্ব যে কয়েক গুণ বেড়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





