বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর এবার দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে বিদ্রোহের সুর। হারের ক্ষত দগদগে থাকাকালীনই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কোচবিহারের দাপুটে নেতা তথা প্রবীণ রাজনীতিক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তাঁর সাফ দাবি, “স্বার্থান্বেষী নেতারা দলকে হাইজ্যাক করে নেওয়ার ফলেই তৃণমূলের এই করুণ দশা।”
এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। টিকিট না পাওয়া নিয়ে আগে থেকেই মনে কিছুটা ক্ষোভ ছিল, কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি রীতিমতো ফেটে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতে, দলের দীর্ঘদিনের পুরনো এবং নিষ্ঠাবান কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। পরিবর্তে একদল সুযোগসন্ধানী নেতা দলের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ায় নিচুতলার কর্মীদের সাথে নেতৃত্বের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আর তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ইভিএম-এ।
তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশলকেই দায়ী করছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “দলের মধ্যে যারা এখন ছড়ি ঘোরাচ্ছে, তারা মানুষের পালস বোঝে না। স্রেফ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে দলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে সবথেকে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। তৃণমূলের এই সংকটের মুহূর্তে তিনি কি অন্য কোনো শিবিরে যোগ দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য রহস্য জিইয়ে রেখেছেন তিনি। খোলসা করে কিছু না বললেও, তাঁর অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট যে তিনি বড় কোনো সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, “এখনই কিছু বলছি না, সময় আসুক, সব জানতে পারবেন।”
রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এই মন্তব্য কোচবিহার তো বটেই, গোটা রাজ্যের তৃণমূল শিবিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরাজয়ের পর যখন দল গুছানোর চেষ্টা চলছে, তখন অভিজ্ঞ এই নেতার ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান ঘাসফুল শিবিরের জন্য যে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা নিশ্চিত। এখন দেখার, তৃণমূল নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়।





