কলেজ ক্যাম্পাসে সরস্বতী-ভারতমাতার ছবি বাধ্যতামূলক! বড়সড় দাবি নিয়ে ময়দানে নামছে এবিভিপি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল শিক্ষা ক্ষেত্রেও। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে (এবিভিপি) যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকাল থেকেই অগণিত ছাত্রছাত্রী তাদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ফোন করছেন।

সদস্য সংগ্রহে বড় লক্ষ্য ও ‘জেন-জি’ ফ্যাক্টর এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য জানান, বর্তমানে রাজ্যে তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার। তবে আগামী ৯ জুলাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে দুর্গাপূজা পর্যন্ত নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এবারের লক্ষ্য মূলত ‘জেন-জি’ বা আধুনিক প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। নীলকণ্ঠবাবু বলেন, “বাংলাদেশ বা নেপালের মতো জায়গায় জেন-জি দেশকে অস্থির করলেও, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের সঙ্গেই রয়েছে। বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে এই তরুণ প্রজন্মই আমাদের প্রধান হাতিয়ার।”

টিএমসিপি-র জন্য বন্ধ দরজা সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য দরজা খোলা থাকলেও ‘তৃণমূলপন্থী’ বা ‘হার্মাদ বাহিনী’র কোনো স্থান এবিভিপি-তে হবে না। তৃণমূলের যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন রুমে মনীষীদের ছবি বাধ্যতামূলক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলির জন্য একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা আনতে চলেছে এই ছাত্র সংগঠন। তাদের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসের ইউনিয়ন রুমগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, দেবী সরস্বতী এবং ভারতমাতার ছবি থাকা বাধ্যতামূলক। নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “চে বা লেনিন ভারতের কেউ নন। পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলার মনীষীদের ছবিই থাকবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি যদি রাখতেই হয়, তবে তা মনীষীদের ছবির পরেই রাখতে হবে।”

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি রাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন দ্রুত করানোর জন্য নবগঠিত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের মতে, নির্বাচন না হলে সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না, যা পরোক্ষভাবে শিক্ষা ও ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক হলেও, আগামী দিনে বড় নির্বাচনে বড় চমক দেওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া ছাত্র সংগঠন। এদিনের বৈঠকে নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন হালদার এবং অনন্ত বারুই। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলার ছাত্র রাজনীতিতে যে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy