উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে ঘটে যাওয়া এক শিউরে ওঠা ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, অতি বিশ্বাস অনেক সময় কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুভাষ নগরের মদিনাথ এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত এলআইইউ (LIU) পরিদর্শকের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। যাকে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ছেলের মতো বিশ্বাস করতেন, সেই যুবকই শেষ পর্যন্ত ঘাতক হিসেবে সামনে এল।
মৃতার নাম শারদা যাদব। তিনি এলআইইউ-এর অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর গজরাজ সিংয়ের স্ত্রী ছিলেন। গত শনিবার বিকেলে তিনি বাড়ির কাছেই একটি ব্যাংকের লকারে গয়না জমা দিতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হলেও প্রাথমিকভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। নিরুপায় হয়ে পরিবার নিজেরাই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে বরুণ পারাসারি নামে এক যুবক শারদাকে ফোন করেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি গাড়িতে শারদাকে উঠতে দেখা যায়, যা বরুণেরই ছিল। এই বরুণ দীর্ঘদিন ধরে গজরাজ সিংয়ের বাড়িতে যাতায়াত করত এবং শারদা দেবী তাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন।
সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ বরুণকে হেফাজতে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সে নিজের অপরাধ কবুল করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিলিভিটের জাহানাবাদ এলাকা থেকে শারদার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই খবর চাউর হতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অভিযুক্ত বরুণ পৌর কর্পোরেশনের একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো আকস্মিক অপরাধ ছিল না। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়েছিল। পুলিশের উদ্ধার করা বরুণের গাড়িটিতে রক্তের দাগ এবং একটি ভারী যন্ত্র (পানা) পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভারী যন্ত্র দিয়ে শারদা দেবীর মাথায় সজোরে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় শারদার শরীরে প্রায় ছয় তোলা ওজনের সোনার গয়না ছিল। পুলিশের সন্দেহ, এই গয়নার লোভেই বরুণ এমন জঘন্য পথ বেছে নেয়। বর্তমানে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে।





