পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত মুছে গেল এক সময়ের দাপুটে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কেবল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং একাধিক জেলায় তৃণমূলের অস্তিত্বকে সঙ্কটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের অন্তত ৯টি জেলা থেকে ঘাসফুল শিবির এবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই ৯ জেলায় একটি আসনও দখল করতে পারেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
বাংলার মসনদে এবার প্রথমবার বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার ইতি ঘটিয়ে গেরুয়া আবীরে মেতেছে বাংলা। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে আগাম আভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ভোটের পর এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, বেশ কিছু জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারবে না।” নির্বাচনী ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর সেই ভবিষ্যৎবাণীকেই অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে গেরুয়া সুনামি এতটাই তীব্র ছিল যে, পাহাড় থেকে সমতল—কোথাও তৃণমূলের চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। ২০২১-এ যেখানে এই অঞ্চলে বিজেপি ৩০টি আসন পেয়েছিল, এবার সেখানে তারা একক আধিপত্য কায়েম করেছে। এই অভাবনীয় ধস নিয়ে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতারা এবার আর রাস্তায় মুখ দেখাতে পারবেন না। জনতা তাঁদের ছাড়বে না। যে অহংকারের সুনামি নিয়ে তাঁরা চলছিলেন, আজ সেই সুনামিতেই তাঁরা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছেন।”
বিপর্যস্ত তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের গলায় ধরা পড়েছে আত্মসমর্পণের সুর। তিনি বলেন, “প্রচার চলাকালীন আমরা বুঝতেই পারিনি যে মানুষ তলে তলে এতটা ক্ষুব্ধ। এই ধরণের বিপর্যয় আমরা কল্পনাও করিনি।” দক্ষিণবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরেও তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম—সর্বত্রই বাম দুর্গের মতো তৃণমূলের সাম্রাজ্যও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। ২০১১ সালে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে বাম বিদায় হয়েছিল, ১৫ বছর পর ২০২৬-এ সেই একই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় ভর করে নবান্নে যাত্রা শুরু করল বিজেপি।





