গণনার আগেই রক্তাত্ব বাংলা! নোয়াপাড়ায় বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি, নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্র?

৪ মে, সোমবার বাংলার রাজনীতির হাই-ভোল্টেজ ফয়সালা। গোটা রাজ্যের নজর যখন ইভিএম-এর দিকে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। রাতের অন্ধকারে এক বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে চলল অতর্কিত গুলিবৃষ্টি। খুনের উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙল গুলির শব্দে বিজেপি নেতা কুন্দন সিংয়ের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে যখন এলাকা নিস্তব্ধ ছিল, তখনই একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। কুন্দনের দাবি, আততায়ীরা তাঁকে সশরীরে খতম করার উদ্দেশ্যেই এই ছক কষেছিল। কোনোক্রমে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ হামলার খবর ছড়াতেই এলাকায় পৌঁছান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনার দায় সরাসরি শাসকদলের ওপর চাপিয়েছেন আক্রান্ত নেতা। কুন্দন সিং সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “তৃণমূল বুঝে গিয়েছে যে তারা এবার হারছে। হারের আশঙ্কায় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। ভাগ্যিস কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি, নইলে কালকের দিনটা দেখা হতো না।”

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতারি ঘটনার খবর পেয়েই নোয়াপাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাফ (RAF)। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বয়ান খতিয়ে দেখে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হামলার নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক মাস্টারমাইন্ড রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

গণনার আগে থমথমে এলাকা সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার কথা। তার কয়েক ঘণ্টা আগে এমন প্রাণঘাতী হামলা নোয়াপাড়া ও বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গণনার দিনে অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যেই এই মহড়া দেওয়া হচ্ছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘নাটক’ বা বিজেপির ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল’ বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে।

আপাতত গোটা এলাকা পুলিশি পাহাড়ায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ৪ মে-র ফলাফল প্রকাশের আগে এই গুলিবৃষ্টির ঘটনা যে রাজ্য রাজনীতির পারদকে এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy