উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তন এনে নজির গড়ল গুজরাটের ভাদোদরার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় (MSU)। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে কেবল গতানুগতিক সমাজবিজ্ঞান নয়, পড়ানো হবে আরএসএস-এর ইতিহাস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসন পরিচালনার বিশেষ নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে চারটি নতুন কোর্স চালুর অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড অফ স্টাডিজ, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সিলেবাসে ‘মোদী তত্ত্ব’:
এই নতুন শিক্ষাক্রমের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘মোদী তত্ত্ব’। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিত্ব, তাঁর অনন্য নেতৃত্বগুণ এবং কাজ করার বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে এখন থেকে বিস্তারিত পড়াশোনা করবেন ছাত্রছাত্রীরা। সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট থেকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মতো জনকল্যাণমূলক প্রচার ও প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব ঠিক কতটা, তা নিয়ে চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মূলত একজন রাষ্ট্রনেতার প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতি বোঝাতেই এই কোর্সটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরএসএস ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিশেষ পাঠ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) উৎপত্তি, বিবর্তন এবং ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এই সংগঠনের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবেন। এর পাশাপাশি:
স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএস-এর ভূমিকা।
সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও পরিবেশ সুরক্ষা।
অলাভজনক সংস্থা বা এনজিও (NGO) পরিচালনার ক্ষেত্রে আরএসএস-এর মডেল।
বীর সাভারকর থেকে শিবাজি মহারাজের শাসনকাল:
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মোট চারটি নতুন কোর্স অনুমোদন করেছে। যেখানে স্থান পেয়েছেন বীর সাভারকর, মহর্ষি অরবিন্দ এবং ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের মতো মহান মনীষীদের চিন্তাধারা। এ ছাড়াও ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ এবং মহারাজা সায়াজিরাও গায়কোয়াড়ের শাসনব্যবস্থা ও তাঁদের সামাজিক সংস্কারের ইতিহাসকেও পাঠ্যক্রমে আনা হয়েছে। জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা এবং এই বিষয়ে ভারতীয় সমাজবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যুক্তি:
কেন হঠাৎ এই পরিবর্তন? সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডঃ বীরেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও স্পষ্ট করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। তাঁর মতে, নীতি আয়োগের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই এই বিষয়গুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি এবং একটি স্বাভাবিক অগ্রগতি।
শিক্ষার আঙিনায় এই নতুন ধারার সংযোজন আগামী দিনে পড়ুয়াদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





