৪ মে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে এখন কার্যত স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। স্ট্রং রুমের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা আর ভেতরে সিসিটিভি-র নজরদারির মাঝেই এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটগণনার দিনটিকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মোতায়েন করা হচ্ছে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের এক বিশাল বাহিনী।
৭৭ গণনাকেন্দ্রে বাড়তি ‘চোখ’ কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে গণনা চলাকালীন যাতে তিলমাত্র কারচুপি বা গন্ডগোল না হয়, তার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার (Counting Observer)। মূলত যে সমস্ত কেন্দ্রে গণনার চাপ বেশি বা একাধিক কাউন্টিং সেন্টার রয়েছে, সেখানে মূল পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করবেন এই অতিরিক্ত অফিসাররা।
বাইরে মোতায়েন ৭৭ পুলিশ অবজার্ভার গণনাকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দিকটি কঠোর হাতে সামলাতে নিয়োগ করা হয়েছে আরও ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার। তবে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ—এই পুলিশ আধিকারিকরা কোনোভাবেই গণনাকক্ষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাঁদের মূল কাজ হবে বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অপ্রীতিকর জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা রুখে দেওয়া।
কিউআর কোড ও কড়া বিধিনিষেধ নিরাপত্তা নিয়ে এবার বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ কমিশন। আগেই জানানো হয়েছে, কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত বিশেষ আই কার্ড ছাড়া কাউন্টিং এজেন্ট বা কোনো আধিকারিকই ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাঁজোয়া গাড়ির সুরক্ষা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্ট্রং রুমের সুরক্ষায় এবার সাঁজোয়া গাড়ি ব্যবহারের খবরও সামনে এসেছে। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং গণনার দিন ভয়মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতেই এই ‘যুদ্ধকালীন’ প্রস্তুতি।
সব মিলিয়ে আগামী ৪ মে বাংলার মসনদে কে বসবে, তা নিয়ে যখন কোটি কোটি মানুষ অপেক্ষায়, তখন কমিশনের এই বজ্রমুষ্টি নিরাপত্তা বলয় রাজনৈতিক মহলে এক বাড়তি উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।





