ভুল হলেই যাবে চাকরি! গণনাকেন্দ্রে নজিরবিহীন কড়াকড়ি কমিশনের, মোতায়েন ১৬৫ অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। ৪ মে, সোমবার ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজনৈতিক দলগুলোর। তবে তার আগেই গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। শনিবার একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে কমিশন, যা রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক ও পুলিশের ঢাল কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁক রাখতে চায় না তারা। সাধারণ পর্যবেক্ষকদের কাজের চাপ সামলাতে এবং নিখুঁত তদারকির জন্য অতিরিক্ত ১৬৫ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, গণনাকেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ৭৭ জন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক। কমিশনের কড়া নির্দেশ—গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক পর্যবেক্ষককে সশরীরে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে।

ভুল হলেই যাবে চাকরি! এবারের গণনায় সবথেকে বড় চমক হলো আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাফ জানিয়েছেন, গণনার হিসেবে বা কম্পাইলেশনে কোনো কর্মীর গাফিলতি ধরা পড়লে সরাসরি তাঁর চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। গণনায় কোনো ভুল হলে তার কৈফিয়ত দিতে হবে খোদ পর্যবেক্ষকদের।

লিখিত মুচলেকা বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সুনিশ্চিত করতে এবার অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রের ভেতরে থাকা কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, সুপারভাইজার থেকে শুরু করে বাইরে ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিক—সবাইকে একটি মুচলেকা (Undertaking) জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা গাফিলতি ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণ সেই আধিকারিককেই নিতে হবে।

আঁটোসাটো নিরাপত্তা বলয় ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্ট্রং রুম ও কাউন্টিং সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে চারপাশ। কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, একটি ভোটের হিসেবেও কোনো গোলমাল বরদাস্ত করা হবে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy