২ মে, বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ১০৫তম জন্মদিন। আর এই বিশেষ দিনটিতে কলকাতার ১/১ বিশপ লেফরয় রোডের সেই ঐতিহাসিক বাড়ির সামনে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। জনজোয়ার আছড়ে পড়েছে রাস্তার মোড় পর্যন্ত। মানুষের এই অন্তহীন ভালোবাসা দেখে রীতিমতো বিস্মিত বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক ও অভিনেতা টিনু আনন্দ।
গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে শহরে টিনু অমিতাভ বচ্চনের ‘শাহেনশা’ বা ‘কালিয়া’র মতো ব্লকবাস্টার ছবির পরিচালক টিনু আনন্দ এদিন নিজেই হাজির হয়েছিলেন তার চলচ্চিত্র জীবনের গুরু সত্যজিৎ রায়ের বাসভবনে। নিজের হাতে ‘মানিকদা’র ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। মানুষের ভিড় দেখে অভিভূত টিনু বলেন, “এত মানুষ, এত দূর-দূরান্ত থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন শুধুমাত্র মানিকদাকে একবার অনুভব করতে! এই দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি। মনটা ভরে গেল।”
সত্যজিৎ ছাড়া টিনু আনন্দ অসম্ভব আজ টিনু আনন্দ বলিউডের এক পরিচিত নাম হলেও, তার ভিত তৈরি হয়েছিল এই কলকাতাতেই, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। ইটিভি ভারতকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আবেগপ্রবণ টিনু বলেন, “সত্যজিৎ রায় আমার চোখে আছেন, হৃদয়ে-মননে মিশে আছেন। আমার ভেতর-বাহির জুড়ে শুধুই মানিকদা। তাঁকে আমি কখনও ভুলতে পারব না।”
সহকারী পরিচালক থেকে বলিউডের দাপুটে মেকার অনেকেই হয়তো জানেন না, টিনু আনন্দের হাতেখড়ি হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের সহকারী হিসেবেই। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘অশনি সংকেত’-এর মতো কালজয়ী ছবিতে তিনি মানিকদার সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে মুম্বই পাড়ি দিয়ে পরিচালনা করেছেন অমিতাভ বচ্চনের ‘শাহেনশা’, ‘ম্যায় আজাদ হু’ কিংবা ‘মেজর সাব’-এর মতো ছবি। অভিনেতা হিসেবেও ‘গজনি’ বা ‘দামিনী’র মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।





