মমতার স্ট্রং রুম সফর নিয়ে শুভেন্দুর বিষ্ফোরক দাবি! ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে’ কী করতে বাধ্য করল কমিশন?

৪ মে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ। তার ঠিক প্রাক্কালে স্ট্রং রুম পরিদর্শন ঘিরে সম্মুখ সমরে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট নেতা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ট্রং রুম পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিদ্রুপে ফেটে পড়লেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর সাফ দাবি, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশাসনিক কড়াকড়িতে বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে কার্যত ‘বিরত থাকতে বাধ্য’ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ভোট শেষ হওয়ার পর ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বের হন তৃণমূল সুপ্রিমো। নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখেন। কিন্তু এই সাধারণ পরিদর্শনকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর ধারালো আক্রমণ: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে স্ট্রং রুমের ভেতর অবৈধভাবে ঢোকার বা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, “তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখন কেবলই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। তাই তাঁকে নিয়ম মানতে এবং বাড়তি ফায়দা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে প্রশাসন ও কমিশন। এটা জনগণের জয়।”

কারচুপির জল্পনা: শুভেন্দু আরও দাবি করেন যে, তৃণমূল নেত্রী এখন ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত কারণ তাঁর ‘ছক’ আর কাজে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “উনি যখনই স্ট্রং রুমে যান, তখনই কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের নজরদারিতে এবার সেই সুযোগ মিলছে না।”

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল শিবির। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দলের নেত্রী নিজে ঘুরে দেখছেন। শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তিনি প্রলাপ বকছেন বলে কটাক্ষ করেছে ঘাসফুল শিবির।

রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন— শুভেন্দুর এই ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা কি সত্যিই ফলে যাবে, নাকি মমতাই শেষ হাসি হাসবেন? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy