২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট মিটলেও উত্তাপ একবিন্দু কমেনি। বরং ভোট গণনার আগে ইভিএম (EVM) এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ ঘিরে এবার পাল্টা সুর চড়ালেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মমতার এই আশঙ্কার পাল্টায় শুভেন্দুর সাফ কথা, “ধরনায় বসা ওঁর বদভ্যাস, হার নিশ্চিত জেনেই এখন থেকে চিত্রনাট্য সাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।”
ঠিক কী বলেছেন শুভেন্দু? শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত ধুয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, স্ট্রংরুমে ইভিএম বদলে দেওয়া বা যান্ত্রিক কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যখনই উনি বোঝেন যে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, তখনই ইভিএম-এর ওপর দোষ চাপানো শুরু করেন। আসলে ৩ তারিখের (গণনার দিন) হারের কথা ভেবে উনি এখন থেকেই অজুহাত তৈরি করে রাখছেন।”
‘ইভিএম নয়, জনগণের রায়ে ভয়’ শুভেন্দুর দাবি, নির্বাচন কমিশন স্ট্রংরুমের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সিসিটিভি-র কড়া নজরদারি রয়েছে। এরপরেও কেন মুখ্যমন্ত্রী কারচুপির অভিযোগ তুলছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শুভেন্দু যোগ করেন, “উনি আসলে ইভিএম-কে ভয় পাচ্ছেন না, ভয় পাচ্ছেন জনগণের রায়কে। বাংলার মানুষ এবার বদল চাইছে, আর সেটা বুঝতে পেরেই উনি ধরনায় বসার নাটক করার পরিকল্পনা করছেন।”
পাল্টা তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে, তাতে ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল ভোট লুঠ আটকাতেই কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন।
ভোট গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে দুই হেভিওয়েট নেতার এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়ায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে। এখন দেখার, শনিবারের ফল প্রকাশের পর এই বাকযুদ্ধ কোন পর্যায়ে পৌঁছায়। কার অভিযোগ ধোপে টেকে আর কার জয়ের হাসি চওড়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।





