গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবরে তোলপাড় চলছিল— “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কি গুরুতর অসুস্থ নাকি প্রয়াত?” মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে যখন ইজরায়েল ও ইরান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন এই ধরনের গুজব তেহরানের অন্দরেও অস্থিরতা তৈরি করেছিল। তবে যাবতীয় জল্পনা ও জমানো ধোঁয়াশা কাটিয়ে অবশেষে সাফ জানিয়ে দিল ইরান, “নেতা শুধু সুস্থই নন, বরং বহাল তবিয়তে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।”
গুজবের সূত্রপাত: সম্প্রতি বেশ কিছু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই কোমায় রয়েছেন অথবা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এমনকি উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যুদ্ধের এই আবহে এমন খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।
তেহরানের পাল্টা জবাব: জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা এবং বিদেশ মন্ত্রক থেকে এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রু দেশগুলো ইরানের অভ্যন্তরে ভীতি ও অস্থিরতা ছড়ানোর জন্যই এই ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Psychological Warfare) চালাচ্ছে। শুধু বিবৃতিই নয়, নেতার সাম্প্রতিক কাজের কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে তেহরান প্রমাণ দিতে চেয়েছে যে তিনি পুরোপুরি সচল।
কূটনৈতিক গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের মতো দেশে সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা সরাসরি সেদেশের প্রতিরক্ষা এবং ভূ-রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের এই সন্ধিক্ষণে খামেনেই-এর অসুস্থতার খবর ছড়ালে তা ইরানের সামরিক মনোবল ভেঙে দিতে পারে— এই আশঙ্কা থেকেই তেহরান তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ইরানি প্রশাসনের দাবি, দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ এবং তাঁদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিদেশি মিডিয়ার প্রোপাগান্ডাকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছে সরকার।
আপাতত এই ঘোষণার পর ইরানের অন্দরে অনিশ্চয়তা কিছুটা কাটলেও, আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এখনও পুরো বিষয়টি নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। সত্যিই কি সব ঠিক আছে না কি এর আড়ালে অন্য কোনো সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছেই।





