ঘরের ভেতর পা মাটিতে ঠেকানো অবস্থায় ঝুলছে দেহ, অথচ গলায় রয়েছে ফাঁসের দড়ি! দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানার জে জোন এলাকায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আত্মহনন নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
কী ঘটেছিল? মৃত ছাত্রের নাম এবং পরিবারের পরিচয় পুলিশ খতিয়ে দেখছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় মর্মান্তিক দৃশ্য। ছাত্রের দেহটি ঘরের টিনের চালার কাঠামোর সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক বিষয় হলো, দেহটির পা মাটির সঙ্গে ঠেকে ছিল।
রহস্যের দানা: সাধারণত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে দেহের পা মাটিতে ঠেকে থাকার কথা নয়। এই একটি সূত্রই পুলিশের মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। পরিবারের দাবি, দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র মেধাবী ছিল এবং কোনো মানসিক অবসাদে ভুগছিল বলে তাদের জানা নেই। তাহলে কেন এমন ঘটনা ঘটল? নাকি এর পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হাত রয়েছে?
পুলিশি তৎপরতা: খবর পেয়েই নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহালের পর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেনি প্রশাসন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার হওয়া যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি খুন।
এলাকায় শোকের ছায়া: পরীক্ষার মুখে এমন একজন সম্ভাবনাময় ছাত্রের মৃত্যুতে জে জোন এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীদের কথায়, ছেলেটি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিল। পুলিশ ছাত্রের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তার কল লিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে কোনো সূত্র পাওয়ার আশায়।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি তদন্তে কোনো বড় মোড় আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।





