বঙ্গ রাজনীতির চেনা ছকে এবার বড়সড় বদল। যে পুলিশের দিকে এতদিন আঙুল তুলতেন বিরোধীরা, সেই পুলিশেরই দাপুটে এবং নিরপেক্ষ মেজাজে কার্যত মুগ্ধ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে খাকি উর্দির ‘দবং’ অবতার দেখে দিলীপের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি— “পুলিশ-প্রশাসন চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে।”
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে গত কয়েক বছরের চেনা সন্ত্রাস বা রক্তস্নানের ছবি উধাও। টুকটাক বিক্ষিপ্ত অশান্তি বাদ দিলে কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্রই পুলিশের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আর তা দেখেই পুলিশের জয়গান শোনা গেল দিলীপ ঘোষের গলায়। তিনি বলেন, “পুলিশ এবং প্রশাসন বুঝতে পারছে আগামী দিনে রাজ্যে কী হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অভিব্যক্তি এবার বদলে গেছে। এরকম পিঠ সোজা করা পুলিশ আগে কখনও বাংলায় দেখিনি।”
দিলীপ ঘোষ যখন পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ঠিক তখনই ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার গলায় শোনা গেল উল্টো সুর। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ অতি-সক্রিয়তা দেখিয়ে বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সওকতের দাবি, “কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষ দেব না, কলকাতা পুলিশের একটা অংশ তৃণমূলকে হারানোর জন্য মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে।”
ভোটের বাংলায় পুলিশের এই বদলানো ভাবমূর্তি নিয়ে এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। একদিকে বিরোধীদের ‘সার্টিফিকেট’ আর অন্যদিকে শাসক দলের ‘ক্ষোভ’— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে খাকি উর্দির এই নিরপেক্ষ লড়াই কি আগামীর কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? উত্তর দেবে সময়।





