মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য সরকারগুলোর টালবাহানার দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? বকেয়া ডিএ পরিশোধের দাবিতে চলা মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিল হাইকোর্ট। আদালতের সাফ কথা, কোষাগারে টান পড়েছে— এই অজুহাত দেখিয়ে সরকারি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা যাবে না। শুধু তাই নয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে বকেয়া টাকা না মেটালে রাজ্য সরকারকে মোটা টাকা সুদ দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে আদালত।
পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার-এর বেঞ্চ ডিএ মামলায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনোই সরকারি কর্মীদের অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়ার ভিত্তি হতে পারে না।” পঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে পেনশনের বকেয়া মেটানোর জন্য বয়স ভিত্তিক যে ‘লিকুইডেশন প্ল্যান’ করা হয়েছিল, তাকে সরাসরি অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতিদের মতে, পেনশনভোগীরা সবাই একই শ্রেণিভুক্ত, তাঁদের বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বা সমতার অধিকারের পরিপন্থী।
৩০ জুনের মধ্যে মেটাতে হবে বকেয়া
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের সমস্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) মিটিয়ে দিতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার এই টাকা না মেটায়, তবে বিলম্বিত সময়ের জন্য সুদে-আসলে সেই টাকা মিটিয়ে দিতে বাধ্য থাকবে প্রশাসন।
বৈষম্য নিয়ে কড়া তোপ
আদালতের রায়ে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক বৈষম্যের কথা। আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS)-দের মতো শীর্ষ আমলারা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পেলেও কেন সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত থাকবেন, সেই নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, রাজ্য কর্মীদেরও কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্ধতি অনুসরণ করেই মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ডিএ মামলায় প্রভাব ও ৬ মে-র শুনানি
পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের এই রায় পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য এক বিশাল বড় ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠতে চলেছে। এ রাজ্যেও ডিএ মামলা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। রাজ্য সরকার বারবার ‘আর্থিক সংকটের’ দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে অস্বীকার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পঞ্জাব হাইকোর্টের “টাকার অভাব অজুহাত হতে পারে না” মন্তব্যটি আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে বঙ্গ কর্মীদের লড়াইকে আরও মজবুত করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি। বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি পিকে মিশ্রর বেঞ্চে ওইদিন কী হয়, সেদিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন বাংলার কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। পঞ্জাব মডেলের এই জয় কি তবে ৪ মে-র পরেই নতুন কোনো বার্তা নিয়ে আসবে নবান্নের জন্য? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।





