বৈষ্ণোদেবী দর্শনের পুণ্য আর ঘরে ফেরা হলো না এক পরিবারের। বুধবার গভীর রাতে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে এক বীভৎস পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য। রাজস্থানের আলওয়ার জেলার লক্ষ্মণগড় এলাকার কাছে চলন্ত গাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরোনোর কোনো সুযোগই পাননি। ঘটনাস্থলেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিনজন মহিলা, একজন নাবালিকা এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। তাঁরা সকলেই মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার বাসিন্দা। জম্মু ও কাশ্মীরের বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজেদের বাড়িতে ফেরার পথেই এই কালান্তক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎই গাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গোলা হয়ে ওঠে চারচাকা গাড়িটি। পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একমাত্র সাক্ষী এবং জীবিত ব্যক্তি হলেন গাড়ির চালক বিনোদ কুমার মেহার। তিনি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে কোনোমতে লাফ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরের সোয়াই মান সিং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গিয়েছে।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) কৈলাশ জিন্দাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে গাড়ির শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। গাড়িটি সিএনজি (CNG) চালিত হওয়ায় জ্বালানি গ্যাসের সংস্পর্শে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেন্ট্রাল লকিং সিস্টেম লক হয়ে যাওয়ায় বা আগুনের আকস্মিকতায় যাত্রীরা দরজা খুলে বেরোতে পারেননি। উদ্ধারকারীরা যখন পৌঁছান, তখন গাড়ি থেকে কেবল কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





