লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা! মে মাসে কি অ্যাকাউন্টে আসবে টাকা? না কি সব বন্ধ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। একদিকে তৃণমূলের স্বপ্নের প্রকল্প, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মে মাসের শুরুতেই বাংলার কোটি কোটি মহিলার মনে এখন একটাই প্রশ্ন— চলতি মাসে কি প্রকল্পের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? না কি ৪ মে-র ফলপ্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ জাতির মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সাধারণত যে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়, তা নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে প্রবল ধোঁয়াশা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে এই টাকা বিতরণে আইনি বা যান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেহেতু ৪ মে ফলাফল ঘোষণা, তাই নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অনেক সরকারি আর্থিক লেনদেন থমকে থাকে।
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করবে, যেখানে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্যও ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, যদি সরকার পরিবর্তন হয়, তবে কি বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে? না কি তা আরও বর্ধিত আকারে ফিরে আসবে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ৪ মে-র পর সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বকেয়া টাকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি বর্তমান শাসকদল ক্ষমতায় ফেরে, তবে প্রক্রিয়া আগের মতোই চলবে। আর যদি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে, তবে নতুন সরকারের নীতি অনুযায়ী ভাতার অঙ্ক বা প্রকল্পের নাম বদলে যেতে পারে। তবে আপাতত ৪ মে পর্যন্ত বাংলার লক্ষ লক্ষ মহিলার অপেক্ষার প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।