দুর্গাপুজোর মণ্ডপ হোক বা বিধানসভা ভোটের বুথ— বেহালার কাছে তিনি আজও সেই ঘরের ছেলে। বুধবার বঙ্গভোটের দ্বিতীয় দফায় সপরিবারে বুথে হাজির হলেন ভারতীয় ক্রিকেটের আইকন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। পরনে বেগুনি রঙের শার্ট, মুখে চিরপরিচিত চওড়া হাসি আর ব্যক্তিত্বের সেই অমলিন আভিজাত্য; সব মিলিয়ে ভোট উৎসবের দুপুরে মধ্যমণি হয়ে রইলেন ‘মহারাজ’।
পরিবার নিয়ে বুথে সৌরভ
এদিন দুপুর গড়াতেই স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বেহালার বড়িশা শশীভূষণ জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠে পৌঁছন সৌরভ। তাঁকে দেখা মাত্রই ভোটারদের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। তবে মেজাজ হারানো নয়, বরং ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলে ফুরফুরে মেজাজেই ধরা দিলেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি।
৪ মে-র আগে মহারাজের ‘স্কোয়্যার ড্রাইভ’
ভোট দিয়ে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সৌরভ। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে জহুরির মতো জল্পনা জিইয়ে রাখলেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই সৌরভ বলেন:
“এখানে কোনওদিন ভোটে গোলমাল হয় না। মানুষ শান্তিতে ভোট দিচ্ছে, এটাই তো হওয়া উচিত। তবে ৪ মে কী হবে, তা মানুষই বলবে।”
ভোটের ফল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা— প্রতিটি জটিল প্রশ্নকে যেন ব্যাটের মাঝখান দিয়ে বাউন্ডারির ওপারে পাঠিয়ে দিলেন তিনি। এক মিনিটেরও কম সময়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বুঝিয়ে দিলেন, অফ সাইডের গড আজও কেন তাঁর নিখুঁত টাইমিংয়ের জন্য বিখ্যাত।
শান্তিপূর্ণ ভোট ও কলকাতার উত্তাপ
সৌরভ যখন বেহালায় শান্তির বার্তা দিচ্ছেন, তখন উল্টো ছবি ধরা পড়েছে কলকাতার অন্য প্রান্তে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে সৌরভের নির্বাচনী কেন্দ্র বেহালায় ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবের মেজাজেই।
এক নজরে দ্বিতীয় দফা:
মোট আসন: ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।
ভিভিআইপি ভোটার: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রে বাড়তি উন্মাদনা যোগ করেছে।
লক্ষ্য: প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করাই কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বুথমুখী হওয়া কেবল ভোটদান নয়, বরং গণতন্ত্রের উৎসবে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সাধারণ মানুষের কাছে। এখন ৪ মে বাংলার রায় কার পক্ষে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





