ভারতের প্রযুক্তিগত ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় সূচিত হল। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে (ভাইজ্যাগ) এশিয়ার বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ‘গুগল ক্লাউড ইন্ডিয়া এআই হাব’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল। মঙ্গলবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এই মেগা প্রকল্পের সূচনা করেন। গুগলের পক্ষ থেকে এই এআই হাবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যা ভারতের ইতিহাসে এ যাবৎকালের বৃহত্তম প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এক মঞ্চে দেশের শিল্পপতি ও প্রযুক্তিবিদরা
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গ্রুপের কর্ণধার করণ আদানি ও জিৎ আদানি, ভারতী এয়ারটেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাকেশ মিত্তাল এবং গুগল ক্লাউডের ভিপি বিকাশ কোলে। এই প্রকল্প কেবল গুগলের একার নয়, বরং আদানি কানেক্স এবং এয়ারটেলের নেক্সট্রা যৌথভাবে এই সুবিশাল ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো ও কানেক্টিভিটি তৈরির কাজ করবে।
ভারত হবে বিশ্বের চিপ ও জিপিইউ হাব
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদৃষ্টির ফলেই আজ ভারত সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম এবং এআই ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।” তিনি আরও জানান যে, গুগল-সহ বিশ্বের নামী সংস্থাগুলো এখন ভারতেই তাদের সার্ভার, জিপিইউ এবং এআই চিপ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দেশের ইলেকট্রনিক্স চাহিদার ৫০ শতাংশই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ: ভারতের নতুন ডিজিটাল প্রবেশদ্বার
মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “সবাই গুগল সার্চ করে, কিন্তু এবার গুগল নিজেই অনুসন্ধান করে অন্ধ্রপ্রদেশকে বেছে নিয়েছে।” ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই গিগাওয়াট-স্কেল এআই হাবের ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তিনটি বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত।
উন্নত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন পূরণ
আদানি গ্রুপের জিৎ আদানি এবং এয়ারটেলের গোপাল ভিত্তাল জানিয়েছেন, এই হাবটি আল্ট্রা-লো ল্যাটেন্সি (দ্রুত গতিসম্পন্ন) পরিষেবা প্রদান করবে, যা ভারতের ছোট-বড় ব্যবসাগুলিকে নিজস্ব এআই সলিউশন তৈরিতে সাহায্য করবে। আদানির গ্রিন এনার্জি এবং এয়ারটেলের কানেক্টিভিটি পরিকাঠামো এই প্রকল্পকে বিশ্বের অন্যতম টেকসই এআই ইকোসিস্টেমে পরিণত করবে। বিশাখাপত্তনমের এই নতুন রূপান্তর ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।





