রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল বাসিন্দারা। বুধবার দুপুরে ইন্দিরাপুরমের নামী আবাসন ‘গৌড় গ্রিন অ্যাভিনিউ হাউজিং সোসাইটি’-তে এই বিধ্বংসী আগুন লাগে। বহুতলের একটি ফ্ল্যাট থেকে উৎপন্ন হওয়া আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য তলাতেও। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আবাসনের দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গোটা এলাকার মানুষ। দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ে থেকেও সেই আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী চোখে পড়েছে।
স্থানীয় ও দমকল সূত্রে খবর, প্রথমে আবাসনের সাত বা আটতলার একটি ফ্ল্যাটে আগুন লাগে। সেই সময় এলাকায় জোরে হাওয়া বইতে থাকায় আগুন দ্রুত পাশের এবং উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত ১০-১২টি ফ্ল্যাট আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, অনেক বাসিন্দা উপরের তলাগুলিতে আটকে পড়েন। তাঁরা জানলা ও ব্যালকনি দিয়ে হাত নেড়ে বাঁচার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অন্য বাসিন্দারাই প্রাথমিক উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধারকার্যে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আবাসনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং লিফট বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড। আবাসনের এক বাসিন্দা রোহিত জানান, চোখের পলকে আগুন উপরের তলাগুলোতে পৌঁছে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দমকল কর্মীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো আটকে পড়া সমস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বোঝা সম্ভব হবে।





