ভোটের সকালেই মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথ থেকে বেরিয়েই তাঁর শরীরী ভাষায় ধরা পড়ল চরম আত্মবিশ্বাস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানালেন, আগামী ৪ মে যখন ফলাফল প্রকাশিত হবে, তখন দেখা যাবে গতবারের চেয়েও বড় জনাদেশ নিয়ে চতুর্থবারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল। উল্টোদিকে বিজেপিকে নিয়ে তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি— গেরুয়া শিবির এবার ৫০টি আসনের গণ্ডিও পেরোতে পারবে না।
এদিন অভিষেক বাংলার মানুষকে নির্ভয়ে এবং মাথা উঁচু করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমানোর চেষ্টা চলছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, বাংলার প্রতি হওয়া বঞ্চনা, আমাদের ‘রোহিঙ্গা’ বলে অপমান করা এবং আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিদ্রুপের জবাব দেওয়ার দিন আজই।” তাঁর মতে, ইভিএমের বোতাম টিপেই বাংলার মানুষ সমস্ত অপমানের যোগ্য জবাব দেবেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে এদিন সরব হন অভিষেক। বিজেপির ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে খোদ বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে মহিলাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। বালিতে সাধারণ ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। আপনারা চান না মানুষ ভোট দিক, তাই আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।” তাঁর সপাটে হুঙ্কার, “ভয়ের অপর নাম এনআরসি এবং বিজেপি, আর বাংলার মানুষের কাছে একমাত্র ভরসার নাম দিদি।”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় বড় দাবি অতীতেও ধোপে টেকেনি। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বলেছিলেন ২০০ পার করবেন, কিন্তু ৮০-ও পাননি। এবার বলছেন ১৭০, আমি বলছি ওরা ৫০-এর নীচে নেমে যাবে।” সেই সঙ্গে বিজেপির ‘দ্বিচারিতা’ আক্রমণ করে তিনি যোগ করেন, “মানুষকে ১৫ লক্ষ টাকার স্বপ্ন দেখিয়ে ওরা দিল্লিতে ১৫০০ কোটির বিলাসবহুল পার্টি অফিস বানিয়েছে।” শেষে বাংলার মানুষের কাছে তাঁর আবেগঘন আবেদন, “এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিন যাতে আগামী দিনে বাঙালিদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর আগে ওরা ১০০ বার ভাবে।”





