রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সরগরম সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র। বুধবার সকালে রাজেন্দ্র প্রসাদ শিক্ষা সদন গার্লস হাইস্কুলে পৌঁছে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই বুথে পৌঁছে লাইনে দাঁড়ান তিনি। তবে নিজের ভোট দেওয়ার পর বুথ থেকে বেরিয়েই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন এই তারকা প্রার্থী।
রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কৃত্রিমভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, একাধিক জায়গায় ইভিএম বিভ্রাটের ঘটনা নিয়েও সরব হন তিনি। রূপার সরাসরি অভিযোগ, “শাসকদলের মদতেই এই অরাজকতা চলছে। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আরও সক্রিয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। যদিও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী রূপা বলেন, “এবার ভালো কিছুই হবে। ওরা যতই বাধার সৃষ্টি করুক, সফল হবে না।”
অন্যদিকে, রূপার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা তৃণমূল প্রার্থী অরুন্ধতী (লাভলী) মৈত্র সকাল থেকেই বুথে বুথে পরিদর্শন করছেন। রূপার তোলা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে লাভলী জানান, নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং বিরোধীরা হার নিশ্চিত জেনে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
একই দিনে গ্ল্যামার আর রাজনীতির মিশেল দেখা গেল অন্য বুথগুলিতেও। কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের রুবি সংলগ্ন আরবানা কমপ্লেক্সে সকাল সকাল ভোট দেন সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী সস্ত্রীক (শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়) পৌঁছে যান নিজের ভোটকেন্দ্রে। টলিউড তারকাদের এই উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে সাধারণ ভোটারদের, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দ্বিতীয় দফার এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তার উত্তর দেবে ব্যালট বক্স।





