বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। আর এই চূড়ান্ত মূহূর্তে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে বড়সড় বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। একদিকে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমের বিতর্কিত মন্তব্য— সব মিলিয়ে উত্তপ্ত আবহে ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে যাওয়ার আহ্বান জানাল কমিশন।
‘ভয় পাবেন না, কমিশন সাথে আছে’
এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে CEO স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কেউ যদি কাউকে ধমকায় বা ভোট দানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে দমে যাবেন না। কমিশন ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
অজয় পাল শর্মা বনাম ফিরহাদ হাকিম: কমিশনের অবস্থান
বিগত কয়েকদিনে আইপিএস অজয় পাল শর্মা এবং তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। অজয় পালের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে শাসকদল, অন্যদিকে ফিরহাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা তোপ দেগেছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে CEO-র প্রতিক্রিয়া:
অজয় পাল শর্মা প্রসঙ্গে: পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কাজ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফিরহাদ হাকিমের ঘটনা: রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণ বা মন্তব্যের ওপর কমিশনের কড়া নজর রয়েছে। আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘিত হলে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।
অভিযোগ জানাতে টোল-ফ্রি নম্বর
CEO জানিয়েছেন, কোনো ভোটার যদি কোনোভাবে হুমকি পান বা এলাকায় অশান্তি দেখেন, তবে সরাসরি কমিশনের অ্যাপ বা টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারেন। দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য প্রশাসনকে জিরো-টলারেন্স নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা
বুধবারের ভোটে মূলত কলকাতা, হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগনার বড় অংশ থাকছে নজরে। CEO-র এই কড়া বার্তার পর বুথে বুথে নিরাপত্তার কড়াকড়ি কতটা কাজ দেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।





