২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগের রাতে রাজনীতির পারদ আকাশছোঁয়া। নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতাকে আমি লড়েই হারাব, পালানোর জায়গা পাবেন না।” কিন্তু কেন এমন আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু? ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর জয়ের দাবির পেছনে ঠিক কী কী কারণ রয়েছে, নিজেই খোলসা করলেন তিনি।
১. ‘পকেট ভোটার’ ও আসল গণদেবতার লড়াই
শুভেন্দুর দাবি, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল ভরসা ছিল একশ্রেণির ক্যাডার এবং ভুয়ো ভোটার। কিন্তু এবার সেই অঙ্ক মিলবে না। শুভেন্দুর কথায়, “এলাকার মানুষ জেগে গিয়েছে। যারা আগে ভয়ে বেরোত না, তারা এবার সকালেই লাইনে দাঁড়াবে। ভোটার স্লিপের কারচুপি আমি ধরে ফেলেছি। মানুষ এবার জঙ্গলরাজ খতম করতে তৈরি।”
২. পুলিশ ও প্রশাসনের ভোলবদল
ভবানীপুরে বিজেপির প্রচারের অনুমতি না দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি কমিশনের রোষে পড়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “কমিশনের কড়া পদক্ষেপে পুলিশের এক বড় অংশ এখন নিরপেক্ষ। তাই বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের পুরনো ফর্মুলা এবার কাজ করবে না। পুলিশ আর পাহারা দিয়ে তৃণমূলকে জেতাতে পারবে না।”
৩. অ-বাংলাভাষী ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ভোট
ভবানীপুরের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস শুভেন্দুর বড় অস্ত্র। তিনি মনে করেন, এলাকার শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত এবং বিপুল সংখ্যক অ-বাংলাভাষী ভোটার এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ শান্তিতে থাকতে চায় এবং বিজেপিকেই তারা বিকল্প হিসেবে বেছে নেবে।
‘ফাইট হবে সমানে সমানে’
তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুর মমতার নিজের জমি এবং ঘরের মেয়েকে এখানকার মানুষ খালি হাতে ফেরাবে না। এর পাল্টা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রাম ট্রেলার ছিল, ভবানীপুর হবে ফুল সিনেমা। আমি কোনো ছোট দল নই, দেশের বৃহত্তম দলের হয়ে লড়াই করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।”
আগামীকাল, বুধবার ভবানীপুরের ১৪২টি আসনের সঙ্গে ভাগ্য পরীক্ষা হবে এই দুই হেভিওয়েটের। শুভেন্দুর এই ‘মাস্টার প্ল্যান’ কি সত্যিই কাজে আসবে না কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গড় রক্ষা করবেন, নজর এখন সেদিকেই।





