দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাংলাজুড়ে বইছে ‘অযোধ্যা’ হাওয়া। ‘উন্নত বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এবার রাজপথে নামলেন খোদ রাম জন্মভূমির সাধু-সন্ন্যাসীরা। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই সাধুদের সাফ বার্তা— বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বিজেপির হাত শক্ত করা প্রয়োজন। দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের আগে এই ‘গেরুয়া প্রচার’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
কেন কলকাতায় অযোধ্যার সাধুরা?
বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই কলকাতার বুকে বিশাল মিছিল ও পথসভা করলেন অযোধ্যা থেকে আসা একদল বিশিষ্ট সাধু ও মহন্ত। তাঁদের দাবি:
সাংস্কৃতিক সুরক্ষা: বাংলার মন্দির এবং সনাতনী সংস্কৃতি বিপন্ন। তা রক্ষা করতে হলে কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই আদর্শের সরকার থাকা প্রয়োজন।
বিজেপির ‘উন্নত বাংলা’: বিজেপির সংকল্প পত্রে দেওয়া ‘সোনার বাংলা’ এবং ‘উন্নত বাংলা’র স্বপ্নকে সমর্থন জানিয়ে তাঁরা বলেন, মোদী জমানায় যেভাবে অযোধ্যার ভোল পাল্টেছে, সেভাবেই বাংলার উন্নয়ন সম্ভব।
তুষ্টিকরণ বন্ধের ডাক: শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলে সাধুরা ভোটারদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বিজেপির পালে হাওয়া?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফায় অনেকগুলো হিন্দু অধ্যুষিত আসন রয়েছে। সেখানে এই সাধুদের উপস্থিতি ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে উসকে দিয়ে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে সাহায্য করতে পারে। ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতারা এই সন্ন্যাসীদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের প্রচারকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
অযোধ্যার সাধুদের এই রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে ভালো চোখে দেখছে না শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, হারের ভয়ে এখন উত্তরপ্রদেশ থেকে বহিরাগতদের এনে ধর্মকে সামনে রেখে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছে, “বাংলার মানুষ উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবেন, বাইরের সাধুদের কথায় নয়।”
ভোটের দিন বিশেষ নজরে
অযোধ্যা ও রাম মন্দির ইস্যুকে সামনে রেখে এই প্রচার দ্বিতীয় দফার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মধ্য কলকাতার আসনগুলোতে সাধুদের এই বার্তার প্রভাব নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।





