দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোর স্বেচ্ছাচারিতায় রাশ টানল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (RTE Act, 2009) অনুযায়ী দুঃস্থ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুদের ভর্তি নিতে কোনো অজুহাতেই অস্বীকার করতে পারবে না প্রাইভেট স্কুলগুলি। লখনউ পাবলিক স্কুলের একটি আপিল খারিজ করে আজ এই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
লখনউ পাবলিক স্কুল বনাম শিক্ষার অধিকার: লখনউয়ের ‘লখনউ পাবলিক স্কুল, এলডিকো’ কর্তৃপক্ষ আরটিই (RTE) আইনের অধীনে ছাত্র ভর্তি নিয়ে একটি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থই শিশুদের মৌলিক শিক্ষার অধিকারের ওপর হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: শীর্ষ আদালত তার রায়ে জানিয়েছে:
আরটিই আইনের আওতায় বেসরকারি স্কুলগুলি ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণে বাধ্য।
যোগ্য শিশুদের ভর্তি নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
শিক্ষা কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়, এটি প্রতিটি শিশুর সাংবিধানিক অধিকার।
অভিভাবকদের স্বস্তি: অনেক সময় দেখা যায়, বেসরকারি স্কুলগুলি বিভিন্ন অজুহাতে আরটিই কোটার অধীনে শিশুদের ভর্তি নিতে চায় না। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে এখন থেকে সেই সুযোগ আর থাকছে না। যদি কোনো স্কুল ভর্তি নিতে অস্বীকার করে, তবে অভিভাবকরা সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
শিক্ষার অধিকার আইন কী বলে? ২০০৯ সালের এই আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলে অন্তত ২৫ শতাংশ আসন দরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিশুদের জন্য সংরক্ষিত রাখা বাধ্যতামূলক। এই শিশুদের পড়াশোনার খরচ বহন করে সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি এক বিশাল জয়।





