সাধারণ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা ও সরকারি নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিদেশি টাকায় রাজ্যে ধর্মীয় কার্যকলাপ! ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (TTI) নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারীদের দাবি, দেশের আইন এড়িয়ে অন্তত ৯৫ কোটি টাকা ভারতে প্রবেশ করিয়েছে এই চক্রটি।
কীভাবে চলত এই ‘সিক্রেট’ অপারেশন?
তদন্তে জানা গেছে, বিদেশি অনুদান গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় FCRA (ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট) লাইসেন্স নেই এই সংস্থার। সরকারি নজরদারি এড়াতে তারা এক অভিনব পন্থা নিয়েছিল। আমেরিকার ‘ট্রুইস্ট ব্যাঙ্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫টি ডেবিট কার্ড সরাসরি ভারতে আনা হয়। গত কয়েকমাসে এটিএম-এর মাধ্যমে সেই সব কার্ড ব্যবহার করে দফায় দফায় বিপুল নগদ টাকা তোলা হয়েছে। ইডি-র অভিযানে এই কার্ডগুলি ছাড়াও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
টার্গেট কি মাওবাদী এলাকা?
তদন্তে উঠে আসা তথ্যে সবথেকে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অর্থের গন্তব্য। দেখা গেছে, ছত্তিশগড়ের ধামতারি ও বাস্তারের মতো মাওবাদী-প্রভাবিত সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা:
মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনী যখন সফল হচ্ছে, তখন এই অর্থের প্রবাহ কি নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে?
গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় কি কৌশলে ধর্মান্তকরণের কাজ চালানো হচ্ছে?
এক নজরে ইডির সাফল্য:
| উদ্ধার হওয়া সামগ্রী | সংখ্যা/পরিমাণ |
| আমেরিকান ডেবিট কার্ড | ২৫টি |
| নগদ টাকা | প্রায় ৪০ লক্ষ |
| মোট লেনদেন (অভিযোগ) | প্রায় ৯৫ কোটি টাকা |
| সময়কাল | নভেম্বর ২০২৫ – এপ্রিল ২০২৬ |
জাতীয় নিরাপত্তায় উদ্বেগ
তদন্তকারীরা বলছেন, এটি একটি ‘প্যারালেল ক্যাশ ইকোনমি’ বা সমান্তরাল অর্থব্যবস্থা। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বিদেশি অর্থ দেশে ঢুকলে তার হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ সেই নিয়মকে তোয়াক্কাই করেনি। এই ঘটনার পর FCRA আইন আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইডির সন্দেহ, এই চক্রের জাল আরও গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসগুলি ফরেনসিক তদন্তে পাঠালে আরও বড় কোনো রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





