দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক আগেই বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বড়সড় পূর্বাভাস। দেশের প্রখ্যাত সেফোলজিস্ট এবং ‘ম্যাট্রিজ’-এর এক শীর্ষ বিশ্লেষকের দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে বিজেপি একাই ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন জিতে নিতে পারে। যদিও তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইটা কয়েক ইঞ্চির, কিন্তু গ্রাউন্ড সেন্টিমেন্ট যদি ডেটার চেয়ে শক্তিশালী হয়, তবে বড় কোনো অঘটন ঘটা অসম্ভব নয়।
লড়াই কি ১৫-২০ আসনেই সীমাবদ্ধ? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস সামান্য এগিয়ে থাকলেও জয়ের ব্যবধান খুব বেশি হবে না। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই এতটাই কাঁটায় কাঁটায় যে, মাত্র ১৫ থেকে ২০টি আসনের হেরফেরে সরকার গড়ার ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। তবে ‘ম্যাট্রিজ’-এর ওই বিশ্লেষক একটি বড় ‘কিন্তু’ রেখে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি বর্তমান তথ্যের বাইরে মাঠের বাস্তবতা এবং মানুষের মনে বয়ে চলা ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ কাজ করে, তবে বিজেপির পাল্লা ভারী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
বিজেপির কেন এই উত্থান? প্রথম দফার ভোটের পর যে গ্রাউন্ড রিপোর্ট মিলেছে, তাতে কয়েকটি বিশেষ দিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে:
গ্রামাঞ্চলের ভোট: হিন্দু প্রধান বুথ তো বটেই, এমনকি অনেক সংখ্যালঘু প্রভাবিত অঞ্চলেও ঐতিহ্যগত ভোটের ধাঁচ ভেঙেছে।
বিজেপির ভোট শেয়ার: ডেটা বলছে, বিজেপির ভোট শেয়ারে ধারাবাহিক উন্নতি চোখে পড়ছে।
জনরোষ: বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ধীরে ধীরে ‘চেঞ্জ’-এর আবেগে রূপ নিচ্ছে।
মার্জিনাল আসনের খেলা: রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০টি এমন ‘মার্জিনাল’ বা প্রান্তিক আসন রয়েছে, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান হবে অত্যন্ত কম। মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ভোটের সুইং বা এদিক-ওদিক হলেই পুরো ফলাফল পাল্টে যেতে পারে। আর এখানেই তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন বনাম বিজেপির হাওয়ার লড়াই হবে দেখার মতো।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল শিবির অবশ্য এই বিশ্লেষণকে ‘বিজেপির মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে দলের অনেক নেতাই আড়ালে মানছেন যে, এবারের লড়াই আগের মতো একতরফা নয়। অন্যদিকে, বিজেপি শিবির এই তথ্যকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে, বাংলার মানুষ এবার ‘দিদির সরকার’-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলে ভোট দেবে।
সম্পাদকের মত: বাংলার রাজনীতি অত্যন্ত জটিল। শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক চালে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। তবে ১৮০-১৯০ আসনের এই পূর্বাভাস যে দ্বিতীয় দফার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





