ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই ভোটদাতারা লাইনে দাঁড়াবেন। ঠিক তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। সরিয়ে দেওয়া হলো ফলতার জয়েন্ট বিডিও (Joint BDO)-কে। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে কমিশনের এই ‘সারপ্রাইজ’ সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কেন এই অপসারণ?
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও অপসারণের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কমিশন মুখ খোলেনি, তবে সূত্রের খবর:
অভিযোগের পাহাড়: গত কয়েক দিনে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে।
নিরাপত্তার স্বার্থে: ভোটের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন।
দিল্লির নজর: বিশেষ পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের কড়া বার্তা: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কোনো আপস করা হবে না। কর্তব্যে গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্বের বিন্দুমাত্র প্রমাণ পেলে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
ভোটের ঠিক আগের রাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের মদতপুষ্ট হয়ে কাজ করছিলেন ওই আধিকারিক। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের মতে এটি কমিশনের রুটিন প্রক্রিয়া।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ইতিমধ্যেই ওই পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে। ফলতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নাকা তল্লাশিও বাড়ানো হয়েছে।
সম্পাদকের বিশ্লেষণ: ভোটের মুখে আধিকারিক বদল নতুন কিছু নয়, তবে ফলতার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এবার এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ নির্বাচন কমিশন। সাধারণ ভোটারদের আস্থা ফেরাতেই এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।





