গত কয়েক বছরে ভারতীয়দের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে এক আশঙ্কাজনক তথ্য— ক্রমেই বাড়ছে SIP (Systematic Investment Plan) বন্ধ করার হার। মুদ্রাস্ফীতি, বাজারের অস্থিরতা নাকি অন্য কিছু? কেন বিনিয়োগকারীরা মাঝপথে পিছু হটছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কেন বাড়ছে SIP বন্ধের হার?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
বাজারের অস্থিরতা: ২০২৬-এর এই সময়ে শেয়ার বাজারের চড়াই-উতরাই দেখে অনেকেই ভয় পেয়ে লোকসান এড়াতে বিনিয়োগ বন্ধ করছেন।
মুদ্রাস্ফীতি ও লিকুইডিটি সমস্যা: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের হাতে সঞ্চয়ের টাকা কম থাকছে, যার ফলে কোপ পড়ছে মাসিক এসআইপিতে।
তাড়াতাড়ি মুনাফা তোলার প্রবণতা: সামান্য লাভ হতেই অনেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: এসআইপি বন্ধ করা মানেই আপনি চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) ম্যাজিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজারের পতন আসলে সস্তায় বেশি ইউনিট কেনার সুবর্ণ সুযোগ।
আপনার এখন কী করা উচিত?
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হুজুগে পড়ে বা আতঙ্কে এসআইপি বন্ধ করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। আপনার করণীয়: ১. লক্ষ্যে স্থির থাকুন: আপনার বিনিয়োগ যদি ৫-১০ বছরের জন্য হয়, তবে সাময়িক পতনে বিচলিত হবেন না। ২. টপ-আপ করুন: বাজার যখন নিচে নামে, তখন নতুন করে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বড় রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে। ৩. জরুরি তহবিল: এসআইপি বন্ধ না করে বরং আলাদা একটি ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’ রাখুন যাতে বিপদে পড়ে বিনিয়োগে হাত দিতে না হয়। ৪. পোর্টফোলিও রিভিউ: যদি আপনার ফান্ডটি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ পারফর্ম করে, তবেই সেটি পরিবর্তন করার কথা ভাবুন, স্রেফ বাজারের ভয়ে নয়।
সম্পাদকের শেষ কথা: বিনিয়োগ মানেই ধৈর্য। বাজার যখন রক্তাক্ত থাকে, তখনই ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের ‘মাল্টিব্যাগার’ রিটার্নের বীজ বপন করেন। তাই হুজুগে গা না ভাসিয়ে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।





