অফিস যাচ্ছেন হাতে দামি ঘড়ি, জিমে যাচ্ছেন কবজিতে স্মার্টওয়াচ। ইদানীং ঘুমানো বাদে সারাক্ষণ ঘড়ি হাতে রাখাই দস্তুর। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, আপনার কবজিতে থাকা ওই শখের ঘড়িটি আসলে রোগের ডিপো? ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা ঘুম উড়িয়েছে ঘড়ি প্রেমীদের। ২০টি ঘড়ির বেল্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ স্ট্র্যাপেই রয়েছে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া। চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হলো, রাবার বা সিলিকন স্ট্র্যাপে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা টয়লেট সিটের চেয়ে ৩ গুণ এবং পোষা কুকুরের খাবারের বাটির চেয়ে ৮ গুণ বেশি!
কেন আপনার ঘড়ির বেল্ট এত নোংরা?
আমাদের কবজিতে ঘাম গ্রন্থি বেশি থাকে। সারাদিনের ঘাম, মরা চামড়া, ধুলোবালি এবং বডি লোশন ঘড়ির বেল্টের খাঁজে জমা হয়। গরম ও আর্দ্রতায় এই মিশ্রণটি ব্যাকটেরিয়ার জন্য ‘বুফে ডিনারে’ পরিণত হয়। বিশেষ করে সিলিকন ও নাইলন বেল্টের সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলোতে এরা স্থায়ী কলোনি তৈরি করে। অনেকে আবার স্নানের সময়ও ঘড়ি খোলেন না, ফলে সাবান-জল ঢুকে বেল্টের ভিতরটা স্যাঁতসেঁতে হয়ে ফাঙ্গাসের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে।
গবেষণায় মেলা মারাত্মক বিপদসমূহ:
১. স্ট্যাফ ইনফেকশন: সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এটি ত্বকে লাল র্যাশ, চুলকানি ও পুঁজভর্তি ফোঁড়া তৈরি করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এটি রক্তে মিশে সেপসিস পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
২. সিউডোমোনাস ও ই-কোলাই: ৩০ শতাংশ বেল্টে এই জীবাণু মিলেছে। সিউডোমোনাস ত্বকের ক্ষতস্থান পচিয়ে দেয়, আর ই-কোলাই পেটে গেলে ডায়রিয়া ও বমি নিশ্চিত।
৩. অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু: গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া ছিল ‘MRSA’ টাইপ, যা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে মরে না।
সুরক্ষিত থাকার ৫টি গোল্ডেন রুল:
সাপ্তাহিক স্যানিটেশন: সপ্তাহে অন্তত দুবার ৭০% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল দিয়ে ঘড়ির বেল্ট মুছুন। সিলিকন বেল্ট ইষদুষ্ণ জল ও শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করুন।
রাতে বিরতি দিন: ঘুমানোর সময় ঘড়ি খুলে রাখুন যাতে কবজির চামড়া শ্বাস নিতে পারে।
বেল্ট পরিবর্তন: সিলিকন বা নাইলন বেল্ট ৬ মাস অন্তর এবং চামড়ার বেল্ট ১ বছর অন্তর বদলে ফেলুন।
স্নান ও জিমে সতর্কতা: শরীরচর্চার পর ঘাম মুছুন এবং স্নানের সময় ঘড়ি খুলে রাখুন।
সেরা বেল্ট নির্বাচন: গবেষণায় দেখা গেছে মেটাল বা গোল্ড বেল্টে সবচেয়ে কম ব্যাকটেরিয়া জন্মে। স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করলে মেটাল স্ট্র্যাপ বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন, ঘড়ি আপনার আভিজাত্য প্রকাশ করে ঠিকই, কিন্তু পরিচ্ছন্ন না রাখলে এই শখের জিনিসই আপনাকে হাসপাতালের বিছানায় পাঠাতে পারে।





